About us

 

বুদ্ধির মুক্তি

 

সীমাবদ্ধ জ্ঞান আর আড়ষ্ট বুদ্ধি নিয়ে যে মুক্তি অসম্ভব, সেকথা অ-নে-ক আগে বলে গিয়েছেন, এদেশেরেই মানুষরা।

তা জ্ঞান কি? বুদ্ধিই বা কি? মুক্তি কিসের? জ্ঞান আর বুদ্ধিতে তফাৎ কি? তার সাথে আবার মুক্তির সম্পর্ক কোথায়? ঝামেলাই বটে!

বোধ থেকে কি বুদ্ধি? বোধ আবার কি? অবোধ, নির্বোধ—কাদেরকে বলি? কেন বলি? আচারে এবং আচরণে যখন বোধ এর ছোঁয়া না পাই তখনিই বোধবুদ্ধিহীন বলি, এই যে ‘বোধবুদ্ধিহীন’ কিন্তু ‘বুদ্ধিবোধহীন’ না, তার মানে কি বোধ আগে আর বুদ্ধি পরে?

পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে জগতকে অনুভব করাই তো বোধ এবং সেই বোধ পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ কোরে বুদ্ধি, আর সেই বুদ্ধি স্থান ও কালের প্রেক্ষিতে ঢালাই করা হচ্ছে জ্ঞান আর সেই জ্ঞান কে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে চোলাই করা হচ্ছে বিজ্ঞান সরলীকৃত অর্থ তো তাই, নয়?

তা এ সমস্ত কথার সাথে ‘মুক্তি’র সম্পর্ক কি আর মুক্তি বলতে ‘বুদ্ধি’র মুক্তি কেন এত প্রাধান্য পাবে? কারন--সব মানুষ বোধ দ্বারাই চালিত, আর সমাজকে বাসযোগ্য করতে হলে সম্মিলিত বোধগুলির একটা ল-সা-গু বের করে তার ভিত্তিতে এগুলে সমাজ মানবীয় হয়, যা সবার জন্য আকর্ষণীয় থাকে। সমাজকেন্দ্রিক এই জীবনের প্রতি আকর্ষণ তৈরী হলেই মুক্তি কাঙ্খিত হয় আর সেই মুক্তির গোঁড়াতে রয়েছে বুদ্ধি আজ্ঞে হ্যাঁ। ‘বুদ্ধিতে মিলায় মুক্তি, যদিও তর্ক সুপ্রচুর’।

এই ওয়েবসাইট তথা অনন্তালয়-এ গান থাকবেই, কথা হবে, ছবিও ফুটবে। সব মিলিয়ে একটা আবহ হবে যার কারনে জীবন উপভোগযোগ্য বোধ হবে এবং তার কারনে মুক্তি প্রত্যাশিত হবে, ফলশ্রুতিতে বুদ্ধির গোঁড়ায় জল না ঢেলে কোনও উপায় থাকবে না। সেই জল ঢালার অনুষঙ্গে গানও থাকুক, দুটোই তো- নিবেদন। তাই না?

আচ্ছা, গান কাকে বলে? রবি ঠাকুরের এক লিখায় আছে, 'বাক্য যাহা বলিতে পারে না গান তাহাই বলে'। যথেষ্ট বাকস্ফূর্তি এখনও যেহেতু আমাদের হয়ে উঠে নি তাই গান শুনেই না হয় বাকস্ফূর্তির মকশ হউক, তারপর বাক্য গঠন হবে, ভাব প্রকাশ পাবে, অভাবও দূর হবে!  ফেরদৌসি বেগমের এক গানে বলা আছে “চৈতী বাতাস হয়ে বাঊলেরও প্রাণ, কাঁদিয়া ঊঠিলে সখী লোকে বলে গান”আমাদের প্রাণ কখনও বাতাসের মত হু হু করে আবার কখনও আকাশের মত ধু ধু ঢুঁড়ে, তাই আমরা তো সব সময়েই গান গেয়ে যাচ্ছি। সম্ভবত তাই কোনও এক বিদেশী বোলেছিলো, “এরা পাখীর ভাষায় কথা বলে”! চমৎকার পর্যবেক্ষণ! কারণ পাখীদের ভাষা শাখীদের বোঝার কথা নয়! এদেশি একজন লিখেছিলেন “পাখীর ডাকে ঘুমিয়ে পরি, পাখীর ডাকে জেগে” পাখীই বটে, তবে “মোর ডানা নাই আছি এক ঠাঁই”ঠাঁই-এ আছি তা হয়ত ঠিক, তবে ‘ঠায়’ যে বসে নেই সে তো প্রবাসীদের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। কারন দ্বিবিধ, প্রথমতঃ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল আমাদের জন্য খুব ছোট জায়গা, দ্বিতীয়তঃ "সব ঠাঁই মোর ঘর আছে, আমি সেই ঘর লব চিনিয়া"

’৭১ আমদেরকে ঘর বুঝিয়েছে, পর বুঝিয়েছে, আপন-ও বুঝিয়েছে, এখন শুধু মালিকানা বুঝে নেয়া। তাই, এখন শুধু বুদ্ধি হোলেই হবে না, খুব শানানো বুদ্ধি লাগবে। আর শানানো বুদ্ধির জন্য মাথা ঠাণ্ডা থাকতে হয় যার জন্য গান-এর সঙ্গ ‘সুন্দর হে সুন্দর’।

এখানে যে গানগুলি থাকবে তার কপিরাইট <muktee.com> এর নেই। বাতাস থেকে আমরা যে অক্সিজেন গ্রহন করি সে বাতাসের কপিরাইটই বা ক’জনের আছে? গান তো বাতাসের মতোই, দুটোই অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, একটা কানের ভিতর দিয়ে মরমে অন্যটা নাকের ভিতর দিয়ে হৃদয়ে।

সুতরাং, ক্ষমহে মম।

যে কোনও সময়েই এ অনন্তালয়(website) ভ্রমন করা যাবে তবে একটু ফুরসৎ না পেলে উপভোগ্য হবে না। যারা রেজিস্ট্রেশান করতে আগ্রহী হবেন তারা login অংশে যেয়ে ‘Don’t have an account? ক্লিক করে, পুরন করলে—ভবিষ্যতের সমস্ত upload-এর খবর e-mail-এ পেয়ে যাবেন। 'কথা' অংশটি ইদানীং(২০১৭) চালু হয়েছে, যেখানে প্রবেশের জন্য রেজিস্ট্রেশান প্রয়োজন।   

এ অনন্তালয় মোবাইল ফোনেও পাওয়া যায়! ইন্টারনেট-সম্বলিত যে কোনও স্মার্ট-ফোন থেকে muktee.com লিখে যুক্ত হউন। 

তা হোলে শুরু হোক? কি বলেন?

বুদ্ধিং শরণং গচ্ছামি

সায়ীদুল হক খান, ফুলার রোড, নীলক্ষেত, ঢা বি।

ভাদ্র তথা অগাস্ট, ২০১২